জয়
কোয়েল
জয়,
আমি রাজকুমারী বলছি।
সেই রাজকুমারী যার রাজত্ব টা বোধহয় তোমার উপর!
হয়তো সেই রাজত্ব হারাবে, আবার সব ধূলিসাৎ হবে, নতুন রাজত্ব তৈরি হবে।
তবুও তুমি এত দূরত্ব পার করে এসেছে।
অদ্ভূত ভাবে এসেছ।
জানো??
যখন আর আমার কিচ্ছু দেওয়ার মত নেই,
যখন আমি নিস্তব্ধ, শান্ত, গুমট হয়ে বসে থাকা মেঘের মত শুধু গর্জে উঠছিলাম বারবার,
তখনই তুমি এসেছ।।
শান্ত বাতাসের মতো কালো অন্ধকার কাটিয়ে নিয়ে গিয়ে আমাকে শান্ত করেছো,
হাত ধরেছ, সাহস দিয়েছ ।
যদিও সবাই দেয়!
তবুও তুমি আলাদা।
কারণ তুমি আমাকে চিনে তারপর আমাকে কাছে টানো নি
বরং কাছে টেনে নিয়ে তারপর আমাকে চিনেছিলে।
ধন্যবাদ বন্ধু।
অসুখ।।
সমাজ বসু
মানুষের আজ গাছের কথা মনে পড়ে না,
পাখি কিংবা---
নদীর কথাও।
তাই ভুলে যাওয়া সংক্রমণে আক্রান্ত মানুষের ছায়া থেকে
ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে তারা---
আর এভাবেই---
গাছ,পাখি আর নদীর বিরহে জনপদ ভাঙতে ভাঙতে আড়াল করে,
মানুষের সুখ।
বিষাক্ত
কলমে - অন্বেষা মন্ডল
পৃথিবী আজ ধূসর-একরাশ বিষাক্ত ধোঁয়ায়,
মনুষ্যত্ব বোধ হারিয়ে গেছে,বিবেক বড় অসহায়।
লোভ,হিংসে,মারামারি, দ্বন্দ্ব -
জীবন ভুলেছে সঠিক বাঁচার ছন্দ।
এখন তোমার আমার মাঝে অনিশ্চয়তা জাগে,
একটু খানি ছোঁয়ায় মনে আতঙ্ক লাগে।
আজও অবোধ কুঁড়ি মাতৃগর্ভে শেষ হয়,
রক্ত মাখা মাংসপিন্ড- পৈশাচিক জয়।
পৃথিবী আজ ধূসর -একরাশ কালো ধোঁয়ায়,
মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে যাচ্ছে,বিবেক বড় অসহায়।
যত্ন করে বাঁচিয়ে যারা রাখে,
সেই জিয়ন কাঠি ডুবছে মরণ পাঁকে।
প্রকৃতিমা ডুকরে কাঁদে, টলেনা তবু শক্ত পাষাণ,
শোনার অনিচ্ছায় অন্ধ চোখ,বন্ধ কান।
শিল্পের মোহিনী জালে জড়িয়ে,
ধ্বংসলীলায় মত্ত, যাচ্ছে সব মাত্রা ছাড়িয়ে।
পৃথিবী আজ ধূসর-একরাশ বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায়,
মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে যাচ্ছে, বিবেক বড় অসহায়।
ক্ষমতার লোভ - শ্রেষ্টত্বের নেশায় ,
মেতে উঠেছে কুটিল পাশা খেলায়।
এরা অমানুষ - এরা সব পারে,
অন্য প্রাণীদের পায়ের তলায় পিষে মারে।
অট্টহাসির উন্মাদনায়,
সব ভুলে যায়,নিজেদের অস্তিত্ব হারায়।
অপরাধের শেষ সীমায় এসে পৌঁছেছে,
বিশ্ব - প্রকৃতি অনেকবার সতর্ক করেছে।
বিন্দু মাত্র ভয় পায়নি,
থামতে এরা সেখেনি।
আরও বিভৎস রূপ দেখিয়েছে,
নির্লজ্জের মতো পাপের পথে হেঁটেছে।
পৃথিবী আজ ধূসর - একরাশ বিষাক্ত ধোঁয়ায়,
মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে যাচ্ছে, বিবেক বড় অসহায়।
অগাণিতিক দৃশ্যসমূহ
স্বপঞ্জয় চৌধুরী
শূন্যে পেতেছি বোধের জাল
এখানে ধৃত হচ্ছে আলপিন, কালি,
দৈনিক বাজারী ফর্দ
ধৃত হচ্ছে কিছু ফিসফিস শব্দ
অব্যক্ত কানাকানি আর লোমহর্ষক গল্পের খাতা
শূন্যে পেতেছি সংখ্যার যোজন বিয়োজন
পীথাগোরাসের এক ও শূন্যের নীতি
এক হচ্ছে সংখ্যার ঈশ্বর আর শূন্য হচ্ছে দ্বিধাযুক্ত ভ্রষ্টতা
আংগুলে মাখন মেখে পিঁপড়ে ডেকে আনা যায়
পোড়া রুটির ছবি দেখিয়ে আঁকা যায় মানবিক কঙ্কাল।
অন্ধ পথ চলে পা গুনে গুনে সেও টের পায় জালনোট
আর সমুখে গর্তের সন্ধান।
সূর্যের আলো দেখে যে পথিক চোখে দেয় হাত
এ পথ তার জন্য নয় সে বরং গর্তের শীতল ঘোরে
ঘুমিয়ে থাকুক অনাদিকাল।
পথ
--চিরঞ্জিৎ বৈরাগী
খাতাগুলো ছিঁড়লেও
অগোচরে থেকে যাবে একশোভাগ হিসেব
তোমার থেকেই অন্যতুমি
মনে রেখো
সুন্দর সকালের উল্টোপিঠে দুঃখ-রাত
তর্জনী যতো উঠবে
বৃদ্ধাঙ্গুলি তত কাছে
ব্যক্তি এক। পথ অগাধ
বেছে নেওয়া তোমার কর্তব্য ।
দেশটার কি হবে?
- শুভব্রত সরকার
সরকার যন্ত্র,দেয়
ধর্ষণ এর মন্ত্র,
ধর্ষিত হয়ে রাষ্ট্র ন্যায় চায় ফুটপাতে।
চলে গোলাগুলি,দিয়ে
ধর্মের বুলি,
মৃতদের মাংস খাবে ধর্ম নুন ঢেলে জল ভাতে।
চাই ওদের নতুন নীতি,
চুলোয় যাক সম্প্রীতি,
মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে রাজা হয় এক রাতে।
সেই ছেলে গুলি,
আওরাতো বিপ্লবের বুলি,
দেশদ্রোহী আক্ষা পেয়ে মরলো তো অপঘাতে।
চুপ থাকাই শ্রেয়,কারণ ওরা
"শক্তিশালী অপরাজেয়"
পরিবর্তন চাইলে তোমার দেহ খাবে শেয়ালতে।
জনগণ খুবই ক্লান্ত,
তবু তারা আজ শান্ত,
ফেসবুকে হ্যাজট্যাগে বলে "দেশটার কি হবে!"
অন্তরালে
বিধানচন্দ্র রায়
হাভাতে শ্রমিকের খাতায় যতটা
উজ্জ্বল হয়ে উঠছি
কবিতা -- ততটাই হয়ে উঠছে
তেতো, বিষাক্ত, ছেলেমানুষি ...
সমস্ত কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি
শ্রমিক ভাই-বোনের ঘাম,
চাবুকের দাগ।
চায়ের পেয়ালাতেও স্পষ্ট হচ্ছে
পাহাড়ি মেয়েটার কালশিটে তনু
দেখতে পাচ্ছি
কয়েকটা লোক ছাড়া
সবাই শ্রমিক, স্বপ্ন খোয়ানো
মৃত লাশের জীবিত রূপ --- মরণের
প্রত্যাশায় হার মানে না কেউ ...
আর ---
অন্তরালে প্রস্তুতি নিচ্ছে, সুভাষ বসু
আবার আসবে;
ফুল ফুটবে মানুষের জন্য।
ঘুমিয়ে আছে গল্প কত...( গদ্য )
পল্লবী মালো
আমার অনেক গল্প আছে। তাদের একটাও আমার নিজের নয়, নিজের লেখাও নয়। যাদের গল্প তারাই লিখেছে। আজ অব্ধি পাবলিশও হয়নি কোথাও। অপ্রকাশিত সেসব গল্প আমি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি বুকের মধ্যে। আজ বলব এক এক করে।
অবিনাশ যে মাধবীকে ভালবেসেছিল, মাধবীর আগেই জানতে পেরেছিলাম আমি। পড়ন্ত বিকেলের প্রথম আলো ওর মুখের উপর পড়লে বেশ মায়াময় লাগে। মাধবীকে আমি চোখে দেখিনি, তার অনেক গল্প শুনেছি, সবটাই কিন্তু অবিনাশের মুখে। গল্প শুনেই তারে অল্প অল্প... থাক্ না হয় সেসব কথা।
তমালের তখন বয়স কত? বড়জোর ওই সতেরো-আঠারো হবে। বাবার পকেট থেকে চুরি করে ও একটা সিগারেট টেনেছিল প্রথমবার, তাও আবার দেবেনবাবুর টিউশানির ফাঁকে। তুলসি পাতা চিবিয়ে ঘরে ফিরে তমাল সেদিন আমাকেই প্রথম বলেছিল, “জীবনে প্রথমবার সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়লাম”। আমিও মনে মনে হেসেছিলাম ওর উত্তেজনা দেখে।
তানিয়া বলেছিল, স্কুলের প্রেয়ার লাইনে, ক্লাসের ফাঁকে অয়ন নাকি আড়চোখে দেখে ওকে। চোখের পলক না ফেলে লুকিয়ে লুকিয়ে... আর হঠাৎ তানিয়া দেখে ফেললেই ধরা পড়ে যায়, ভান করে ব্যস্ততার। অয়নের ওই মিছে ব্যস্ততা দেখেই মজা পায় তানিয়া। অয়নের চোখ দিয়েই নিজেকে সুন্দরী ভাবতে ভালোলাগে তানিয়ার। এ এক অদ্ভুত ভালোলাগা। যেন পুরো পৃথিবীটাই শান্ত, তাপমান স্বাভাবিক। শুধু তানিয়ার বুকের উষ্ণতাটাই বেশি, ওর হৃৎপিণ্ডেই ভুমিকম্প। লাখো-লাখো মানুষের এই পৃথিবীতে সেই কম্পনের সাক্ষী শুধু দুজন…তানিয়া আর আমি।
শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায়, খোয়াইয়ের পথে সৌমিত্র যখন রত্নার হাত ধরে বলেছিল, “আমার জানিস খুব ইচ্ছে, এই রবিঠাকুরের দেশে একটা ভালোবাসার সংসার গড়ার... আমার সঙ্গে পালিয়ে আসবি? শহুরে ঝঞ্ঝাট বড্ড একঘেয়ে রে”। আমি জানি ঠিক তখনই রত্নার বুকের খাঁচা থেকে ডানা মেলে উড়ে গিয়েছিল একশোখানা রঙিন পাখি। রত্নার পাও কি আর মাটিতে ছিল? দুটো পাখা নিজের শরীরেও জুড়ে দিয়েছিল ও। পথভোলা বাউলের একতারায় তখন, “আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি, মন বান্ধিবি কেমনে?” মনে আছে, সব স্পষ্ট মনে আছে আমার।
পুকুরধারের সূর্যডোবা দেখতে দেখতে রুপমের ঠোঁট ডুবেছিল পিয়ালির ঠোঁটে, পিয়ালির হৃদস্পন্দন এক লহমায় আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছিল। বাড়ি এসেও কমেনি সেই ধুকপুকানি। রুপমের প্রতিটা স্পর্শও পিয়ালি লিখে রেখে গেছে…শুধু আমিই জানি সেটা। ওদের প্রেম পরিণতি পায়নি শেষমেশ…কিন্তু পিয়ালির সেই গোপন ভালোলাগাটা আমার মধ্যে রেখে দিয়েছি সযত্নে।
দশবছর আগের ফেলে আসা প্রেমকে সেদিন কলেজস্ট্রীটের রাস্তায় অচেনা ভিড়ে দেখতে পেয়েও চিনতে পারল সৌম্য। সময় ফিরতে চাইল কলেজ ক্যাম্পাসে। কিন্তু রুমার সিঁথির সিঁদুরে এসে থমকে গেল হতভাগ্য সেই সময়ও। সৌম্যর বুকের কষ্টটা দেবযানীকে বলা যায়না। প্রাক্তনের খবর জানানো যায়না বর্তমানকে। কিন্তু আমাকে তো বলাই যায়। আমার সামনে খোঁড়াই যায় ইতিহাসের কবর।
ক্যান্সারের সঙ্গে লড়তে লড়তে কাকলি হাঁপিয়ে যাচ্ছে আজকাল। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে বারবার অতীতটাকে ফিরে দেখতে চায় ও। পাতা উল্টিয়ে দেখে কফি হাউস, রবীন্দ্রসরোবর, নন্দন আর গঙ্গার ধার... উফ্, কাশ্মীরের স্বর্গটা ছোঁয়া হলনা। শেষ কেমোটা নেওয়ার আগে আমার কানে কানে এসে কাকলি বলেছিল, “মরিতে চাহিনা আমি...!” বাকিটা আমি আর শুনতে পাইনি, হয়ত শুনেছে স্বর্গ...সেই স্বর্গও কি কাশ্মীরেই?
মৈনাক চলে যাওয়ার পরে, ডিপ্রেশানের একলা অন্ধকারগুলো আমার সঙ্গে কথা বলে কাটাত পর্না। চোখের জলে ভিজে যেত পৃষ্ঠা।
অঙ্কিতা একসময় আমাকে শুনিয়েছে চাঁদের পাহাড়ের গল্প, পক্ষীরাজ ঘোড়ায় চড়া রাজকুমারের গল্প...ওর হাতের কবিতাগুলোও লুকিয়ে রেখেছি আমি। অঙ্ক-বিজ্ঞান-এন্ট্রান্সের চাপে আজকাল শুধু ওর কলম থেকে নাভিশ্বাসই বেরোয়। কথাও হয়না আমাদের খুব একটা।
ধর্ষণের পর গোটা মহল্লাই বাঁকা চোখেই তাকায় বৃষ্টির দিকে। ওর শরীরের মানচিত্রটাও একটু বদলেছে। মনটা বদলেছে কি? সেই মনের হদিশ পায়না কেউ... আমি ছাড়া কেই বা বোঝে ওকে? বুঝতে চায়ও বা কি কেউ?
সৃজার জীবনে অনেক দুঃখ। কর্পোরেট অফিসের চাকুরে বাবার অহং আর সীমাহীন ঔধত্য, মায়ের বঞ্চনা আর চোখের জল... বাবা-মায়ের দাম্পত্য অশান্তিতে সৃজার জীবন থেকে হারিয়েছে সব রঙ। সৃজার ওই সাদাকালো শৈশবে মিশে থাকা যন্ত্রণাগুলো ভাষা পায় আমার কাছে এসে। মুক্তির স্বপ্ন বোনে।
জয়ের গলায় দড়ি দেওয়ার পরে ওর সুসাইড নোট নিয়ে কাটাছেঁড়া হল কত। ওই একটুকরো কাগজে কতটুকুই বা লেখা ছিল? “ আমি আর পারলামনা...শেষ অব্ধি”। ব্যাস, অতটাই। শেষের শুরুটা জানতে হলে দেখা করতে হত আমার সঙ্গে। টেবিলের এক কোণে পড়েছিলাম আমি... সবটা জানতাম,, কিন্তু বাঁচাতে পারলামনা। ওর দেহটা যখন চিতার উত্তপ্ত কাঠে জ্বলে-পুড়ে ধোঁয়া হয়ে মিশে যাচ্ছিল বাতাসে...ওর না বলা কথাগুলো আমার বুকের ভেতর থেকেও দীর্ঘশ্বাস হয়ে উড়ে যেতে চাইছিল ওর সঙ্গে। জয় চলে গেল। ফেলে রেখে গেল অনেক না বলা কথা।
কত কথাই তো বলা হয়না, হয়ত বলা যায়ওনা। কিন্তু লেখা হয়। আমাদের বুকের মধ্যে লেখা হয়, লেখাগুলোই থেকে যায় । লাল-নীল-হলুদ মলাটের একেকটা ডাইরির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একেকটা ইতিহাস, গুচ্ছ গুচ্ছ ফ্যান্টাসি, স্বপ্ন, হতাশা, উল্লাস, যন্ত্রণা, প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি। আমাদের বুকের মাঝেই নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে রয়েছে সভ্যতা। তুমি পাতা উল্টে দেখবে না???
তোমরা তো কথা বলেছ, কত গোপন, কত আপন সেসব কথা।
আজ নিষ্প্রাণ অক্ষরেরাও জাগছে। আমরা ডাইরিরা এবার সব জমে থাকা গল্পগুলো বলব।
বন্ধু, তুমি কি শুনছো? শুনতে পাচ্ছ?
অব্যক্ত কথা
🔸কবি-নীল আকাশ
সব অভ্যাসই একদিন অভ্যাস হয়ে ওঠে
শূন্যতা চাপা পড়ে কবরে;
দুটো মেঘ যদি আজ, অভিমানে চোট খায়
বৃষ্টি তো নামবেই সাগরে।
জমেছে পথের বালি,একরাশ বাঁধা পেয়ে
শরশয্যায় আমি দাঁড়িয়ে,
ঝিনুক কে বলে দেখো, এতটা নিরব কেন-
মুক্ত কে দিয়েছে সে হারিয়ে।
তোমার তো মনে হবে, একলা চলতে হবে,
পুরানো সব মায়া পিছু ফেলে
কাব্য কী করে লিখি, একবার ভেবে বলো
কলমের কালি ঐ দূরে ঠেলে।
আমার ছোট্ট মনে, আলপনা আঁকা ছিল
আঁধারে হয়ত বোঝা যায়নি
শুকিয়ে গেছে ফুল,সাজিতে পড়ে থেকে;
দেবতার চরণ তা পায় নি।
তুমি মৃত্যুর মতো রাজকীয় হয়ে এসো ( গদ্য )
দেবযানী ভট্টাচার্য
##########################
প্রতিনিয়ত হেঁটে যাই বেদনার দিকে,
সুখের প্রতিভূ হয়ে প্রচ্ছন্ন রাখি প্রগাঢ় দুঃখ গুলোকে, মুঠো খুলে বসে ছিলাম, কখন নিশ্চুপ গলে পড়ে গ্যাছে টের পাই নি।
একটা ফাঁকা প্লাটফর্মে বসে থাকি নিরালম্ব ,নিরাভরণ হয়ে।
শূন্য এক বলয়ের কেন্দ্রে নকল পূর্ণতায় ভরে উঠি। বুকের মধ্যে সাঁই সাঁই শব্দ হয়। বুদ্বুদ ফেটে বেরিয়ে আসতে চায় নিযুত দুঃখ গুলো, নদীর ধারে ওদের কান্না গুলোকে নিয়ে কে যেন কুৎসা রটায়। নিয়ন্ত্রিত রাখি বিলাপ,অনুভূতিতে জেগে থাকে বিলাপের মতো তোমার মুখ,আমি বেদনায় হৃদয় রাখি।তুমি মৃত্যুর মতো রাজকীয় হয়ে এসো প্রিয়।
কবি বিরহ
কলমে: নীলাঞ্জন চক্রবর্তী
মোর শব্দহারা দোর, ভোগে প্রেমরোগ।
অগুনতি তারা সব ভিড় করে চোখে।
তোমার বিয়োগে দিন হল কত যোগ।
শেষ রাতে ফিরি বাড়ি যাযাবরী শোকে!
দ্বিতলে পড়ার ঘর, নেই তাতে আলো।
কলমে ফুরায় কালি আঁখি তেজী লাল।
খাতাতে কাগজ সাদা শব্দ মাখে কালো।
এঁটো পাতে চাটি ভাত, রেশনের ডাল!
লেখনীয় সংসারে যে পরকীয় লোক।
বিরহ পাহাড় শ্বাসে শীতলতা বাড়ে।
দেরাজ উপচে পড়ে, পাণ্ডুলিপি শোক।
শব্দেরই শবদেহ পচে হিমঘরে!
যে ব্যর্থ কবির সুখ শনি করে গ্রাস।
সে সঙ্গিনী অভিধান খোঁজে বারোমাস!
সৃষ্টির ছাপ
সত্যব্রত ধর
বেকারত্বের রোদ মাথার উপর পড়তেই...
চশমার চোখ থেকে ঝুলে পরে,
কষ্টের ঘাম...!
দু-আনার ব্যস্ততার খেসারতে,
বন্ধুদের আড্ডাগুলো...
খবরহীন পোড়া ছাই হয়ে উড়ে গেছে!
ফাঁকা পকেট নেড়ে উদাস দৃষ্টি...
রঙিন স্বপ্ন ভুলে,
ছাপোষা সাদা-কালো বর্তমানই জিন্দাবাদ...!
গান রচনার পঙক্তিতে সুর দেওয়ার আগেই,
পুরোনো গীটারের সঞ্চয় ছিঁড়ে...
ক্যারিয়ার গুঁড়িয়ে যায়!
রুলটানা টাইমলাইনে...
স্যাক্রিফাইজের অজানা পথে,
সোশ্যাল ডিসটেন্সের কাঠগড়ায়...
ভ্যাবাচ্যাকা সময় বেআব্রু!
দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া...
ক্ষণিকের জনশূন্য জীবনে,
বেলাশেষে সৃষ্টির ছাপ ফেলাই...
যেনো তৃপ্তির ঢেকুর।
মনোজ
সোমা ধর ঘোষ
আমার ডান হাত লিখছে
দৈনন্দিন...
জীবনের পাতায় পড়ছে দিনযানের
সোহাগী চুম্বন
বাঁ হাতে ছুঁয়েছি তোমার মধুবন...
নীরবতার ব্যাপ্তি
দুই কায়ার মাঝে
হৃদয়তন্ত্রীতে বেহাগ বাজে...
বাঁ হাত তুলে নেয় তোমার মধুবনের
একগুচ্ছ ল্যাভেন্ডার...
তুমি তখন শিহরণে---গুঞ্জরনে
হারিয়েছে তোমার আলয়?
হে সহজিয়ার পথিক,
আমার আলয় তোমার হোক...
রেখেছি ল্যাভেন্ডার থোক
....আমার বাঁ হাত ডান হাতকে ধরে
ফেলে...
চুপি চুপি বলে মন
সকল মনোজ গোপনীয়তার
আজ করব উদযাপন...
কবিতা১
এখন যেভাবে সাজে
ঋভু চট্টোপাধ্যায়
লোকে বললেই শূন্যতা দাঁড়কাক সাজে
দাঁড়িয়ে যায় মেঘ কুমারি রাত।
অসংখ্য তারাদের সাথে হাতে হাত ধরে
খেলতে থাকা লুডো বা দাবা তাদের
সব গুটি নিঃসরণর লাল তরঙ্গ ছুঁয়ে
ঘরে ফেরে ভুল ঠিকানার নৌকা।
এভাবে বললেও সব স্মৃতি মাখামাখি
আজন্ম রোদ্দুর ভুলে যেভাবে নামতে থাকে
একের পর এক গোটা দিন, ভাঙা দুপুর
অথবা আধ ছোঁয়া সন্ধ্যার শুরু,
চায়ের সাথে জন্ম নেয় ক্ষোভ এবং ভালোবাসা
তারপর মাটির সাথে মিশে যায় ভাঁড় ও শেষের তলানি,
জানা নেই তার কোন জীবন বীমা ছিল কিনা,
জানা নেই কোন আন্দোলনের আগে দমনের কৌশল
কে ঠিক করে, কে বলে এই বার দিন হলেই
দ্বীপান্তরে রথ যাবে, এই বার সন্ধে হলেই ঘরে ঘরে বজ্রপাত,
এই বার রাত হলেই ভুল ঘুমে জ্বলে উঠবে চোখ,
সমস্ত গ্রাফ এক্স আর ওয়াইএর মাঝে খুঁজবে ছেদ বিন্দু
অথচ কেউ কথা বলবে না, শব্দ না, এক হবে ছায়াদের অমৃত যোগ।
কবিতা২
জং ধরা সেমিকোলন
ঋভু চট্টোপাধ্যায়
সেখানেই একটা পুরানো সেমিকোলনে লাগানো
রয়েছে কিশোরী বিকাল, স্মৃতি কথা মানে
শুধুই জংধরা একটা মাত্র অশান্ত উপস্থিতি
পাশে সেই বয়ে যাওয়া ছোট্ট খাল সেই চুপচাপ
বিকালের ছাপ, ফেরার সময় হাল্কা বাজার,
এখনও সেই দেরি, সেই মুখ কালো মেঘের ভার,
সেই লুকিয়ে রাখা ক্লাবের এক কোণে দাঁড়ানো
দুটো পা দরজায় লালা লেগে, সেই এক চকলেট সুখ।
No comments:
Post a Comment