১।।
আমি কবিতা লিখি না আজকাল । পথের ধারে ফুটপাথ কাঁপছে দেশজুড়ে । কোনদিন ভোরের আকাশ প্লাবিত হবে লাল রক্তে । সূর্য ঘুমিয়ে পড়বে গ্রহণের নামে ।
ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার তাড়া । বাড়িটা ভিড়ের মধ্যিখানে বসে আছে । এক এক করে দখল করে নেবে পুরো মানুষটাকে । চিৎকার করে লাভ নেই কোন । দাম দেয় না কেউ । দাম শুধু শরীরের ।
কবিতা লিখতে বসলেই বৃষ্টি নামে । ছুটে যাই মাঝরাস্তায় অন্ধকারে মোমবাতি নিয়ে । ভিড় জমে আছে ওখানেও । মানুষের ভিড় , টাটকা । ওরাও কাল লাশ হবে অন্যের দাবিতে , যারা ওদের লাশ বানাতে পথে নেমেছিল লাখো লাখো বৃষ্টি ফোঁটা উপেক্ষা করে ।
তেলের দাম বাড়লে কলম তুলি । পরেরদিন কাগজে ছেপে আসে লেখাটি । অনেক লেখার ভিড়ে দাঁড়িয়ে বুঝেছিল কবিতাটি , তার সৃষ্টি মানুষের খরচ কমাতে আর ওরা কলম তুলেছে লেখা প্রতি খরচ কমাতে ।
আমি কবিতা লিখি না , গল্প লিখি না আজকাল । বরং লেখা হয়ে ওঠার চেষ্টা করি । লেখক ছবি হয়ে যাবে নিশ্চিত , শুধু লেখা অমর আদী অনন্ত জুড়ে ।
২।।
যোগ্যরা সম্মান পায়
আমার সে যোগ্যতা কোথায়
মাটির চারাগাছটা মুখ বাড়িয়েছিল মাটি থেকে
আবার মাটির ঘরে ফিরে যেতে হবে তাকে হতাশ
উৎসব শেষ হলে ।
আমি জানি না
কেন বৃষ্টি নামে আমার ছাদে
কেন অন্ধকার আমার মন
আমি একাকী নৌকার পাল তুলে দেবো ঠিক
আগুন আকাশে ভাসিয়ে দিয়ে শব ।
সেদিন বুঝবে ভালোবাসা , বুঝবে কি হারালে তোমরা
সেদিন বন্ধ দরজা খুলে দেবে হয়তো , উৎসব করে আমায়
তবু বনজর নদীর স্রোতে পলি কত হারিয়ে যায়
কত জীবন রবি হতে পারে না এখানে , বেজ হয়ে কতজন আর অমর হয়ে রয়ে যায় !!
আমি প্রেমহীনা , উদ্বাস্তু তাই ঘৃণা করেছ এই সত্যকে
একদিন দেখো শিল্পীরা মুছে যাবে সবাই , আমি শিল্প হয়ে বেঁচে থাকবো ঠিক ----
সেদিন আমায় তেল দিও না , কলকব্জা রক্ষনাবেক্ষনে ।