১।।
আমি কবিতা লিখি না আজকাল । পথের ধারে ফুটপাথ কাঁপছে দেশজুড়ে । কোনদিন ভোরের আকাশ প্লাবিত হবে লাল রক্তে । সূর্য ঘুমিয়ে পড়বে গ্রহণের নামে ।
ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার তাড়া । বাড়িটা ভিড়ের মধ্যিখানে বসে আছে । এক এক করে দখল করে নেবে পুরো মানুষটাকে । চিৎকার করে লাভ নেই কোন । দাম দেয় না কেউ । দাম শুধু শরীরের ।
কবিতা লিখতে বসলেই বৃষ্টি নামে । ছুটে যাই মাঝরাস্তায় অন্ধকারে মোমবাতি নিয়ে । ভিড় জমে আছে ওখানেও । মানুষের ভিড় , টাটকা । ওরাও কাল লাশ হবে অন্যের দাবিতে , যারা ওদের লাশ বানাতে পথে নেমেছিল লাখো লাখো বৃষ্টি ফোঁটা উপেক্ষা করে ।
তেলের দাম বাড়লে কলম তুলি । পরেরদিন কাগজে ছেপে আসে লেখাটি । অনেক লেখার ভিড়ে দাঁড়িয়ে বুঝেছিল কবিতাটি , তার সৃষ্টি মানুষের খরচ কমাতে আর ওরা কলম তুলেছে লেখা প্রতি খরচ কমাতে ।
আমি কবিতা লিখি না , গল্প লিখি না আজকাল । বরং লেখা হয়ে ওঠার চেষ্টা করি । লেখক ছবি হয়ে যাবে নিশ্চিত , শুধু লেখা অমর আদী অনন্ত জুড়ে ।
২।।
যোগ্যরা সম্মান পায়
আমার সে যোগ্যতা কোথায়
মাটির চারাগাছটা মুখ বাড়িয়েছিল মাটি থেকে
আবার মাটির ঘরে ফিরে যেতে হবে তাকে হতাশ
উৎসব শেষ হলে ।
আমি জানি না
কেন বৃষ্টি নামে আমার ছাদে
কেন অন্ধকার আমার মন
আমি একাকী নৌকার পাল তুলে দেবো ঠিক
আগুন আকাশে ভাসিয়ে দিয়ে শব ।
সেদিন বুঝবে ভালোবাসা , বুঝবে কি হারালে তোমরা
সেদিন বন্ধ দরজা খুলে দেবে হয়তো , উৎসব করে আমায়
তবু বনজর নদীর স্রোতে পলি কত হারিয়ে যায়
কত জীবন রবি হতে পারে না এখানে , বেজ হয়ে কতজন আর অমর হয়ে রয়ে যায় !!
আমি প্রেমহীনা , উদ্বাস্তু তাই ঘৃণা করেছ এই সত্যকে
একদিন দেখো শিল্পীরা মুছে যাবে সবাই , আমি শিল্প হয়ে বেঁচে থাকবো ঠিক ----
সেদিন আমায় তেল দিও না , কলকব্জা রক্ষনাবেক্ষনে ।
৩।।
আয় নেমে আয় খোলা মাঠে ধানের ক্ষেতে
অন্ধকারে কত দিন আর পুড়বি তোরা ছন্নছাড়া
এই মাটির মালিক তোরা , জেনে রাখ
লড়তে হবে , প্রয়োজনে মারতে হবে
মরলে কিন্তু চলবে না ।
সামনে চেয়ে দ্যাখ , বিশাল পথ
হিমালয়ের কঠিন শপথ
সব বাঁধা চূর্ণ করে , ভাঙতে হবে
ধর্মের কল বজ্রাঘাতে
তোরাই তো রক্ষক ভবিষ্যতের
তোদের হাতেই মায়ের আঁচল
ওরে ভুলে যাস না তোরা
তোদের ক্ষমতা , তোদের জেদ , তোদের বল
চারিদিকে আজ অচলায়তন
মানুষ আজ ভীত , সন্ত্রস্ত
আইন কানুন কেনা গোলাম
তোরাই এখন সর্বনাশের মাথায় বাজ ।
ওঠ , জাগ , তুলে নে অস্ত্র এবার
সিংহ নিনাদে গর্জিত হোক রন হুংকার
ঈশ্বর বিরাজে মানুষের মাঝে যখন
ভাঙ যত ধর্ম নামের ওই পাষান বন্দীশালা ।
মুছে দে বিবাদ যত ,
ছিঁড়ে ফ্যাল বাঁধনের ওই কাঁটাতার
মিলনের রাখি ঝুলিয়ে দিয়ে
চল গড়বো আমরা এক পৃথিবী , এক পরিবার ।
৪।।
মহাভারত শেষ হয়নি আজও
যুদ্ধ শেষ হতে পারে নি কোনদিন
অর্জুনের বানে যাদের রক্ত ভেসেছিল সেদিন
তারাই দেখো আজ ইন্দ্রপ্রস্থের সভায়
দেখতে পাও না দুঃশাসনের হাতে বন্দি দ্রৌপদী
কাঁদছে ভরা রাজসভায়
দেখতে পাও না চেয়ে কুটিল শকুনির পাশায়
কত মানুষ ফিরছে পথে সর্বস্বান্ত হয়ে
চেয়ে দেখো চারপাশে কত লাশের ওপর
আজও আমরা দাঁড়িয়ে আছি
তাকিয়ে দেখো সুখের নামাবলি গায়ে
ভয়ংকর কালো অন্ধকার আমাদের করছে গ্রাস ।
মহাভারত শেষ হয়নি এখনো এখানে
কর্ণ অভিমন্যু এখনো অযোগ্য গুরু দ্রনেদের বিচারে
এখনো হিংসার বাতাসে ভেসে আসে হত্যার ষড়যন্ত্র
এখনো কুরুক্ষেত্রে লেখা হয় হাজার চক্রব্যূহের মন্ত্র
কুন্তীর মত কত রমণীরা ঢলে পড়ে পরকীয়ার লোভে
এখনো কত সন্তান ভেসে যায় কুমারি মায়ের বুকচিরে ।
এখানে মহারাজ , মুখে তার যুদ্ধের আহবান
রাজ্য জুড়ে হীরক সাম্রাজ্য , বিভেদের জয়গান
কৃষ্ণের দেখা নেই , রথের দড়ি আজ সামলাবে কে
কে বলবে সমাজের ব্যাথা ,কে আজ গিতার বাণী শোনাবে ?
তাই পথে নেমেছি কলম নিয়ে দুই হাতে
এসো উঠতে জ্বলে , নিজের অধিকারে
নেমে আনো পরিবর্তন , গণতন্ত্রের খাতিরে
মনে রেখো মহাভারত হবেনা শেষ
যতদিন গদি থাকবে ওই পুরুষের দখলে ।
নতুন সকাল বসে আছে পাঁচটা অমাবস্যা জুড়ে
চলো , আহবান করি শক্তি তার ;অতীতের সকল প্রত্যুত্তরে ।
৫।।
আজ থেকে হাজার বছর পরে , এই পৃথিবীর কথা ভেবে
আঁতকে উঠি মাঝে মাঝে । শিউরে উঠি আতঙ্কের প্রহর গুনে । মান আর হুশ হারিয়ে আজ আমরা এক একটা রাজনীতির পুতুল । পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীটি এখন বিচার চিন্তা ছেড়ে স্বার্থের দালালি করতে ব্যস্ত ।
আমরা সত্যিই বদলে যাচ্ছি কি সুন্দর ! সত্যি দিনগুলো বদলে যাচ্ছে এখন ।
ভালোবাসা এখন কিছুদিনের যৌন চাহিদা শুধু । মনের মিলনের থেকে শরীরের মিলনটা অনেক আগে । আজকাল সোহাগ , আদর এসমস্ত শব্দে যৌন গন্ধ বিকট । শরীর খুলে দিয়েছে দুদিকেই পেতে রাখা বিছানায় অথবা পথের ধারে গজিয়ে ওঠা ঝোপ ঝাড়ের আড়ালে --- ঠিক করে একে অপরকে চিনে ওঠা হলো না যদিও কোনদিন ।
আমরা সত্যিই বদলে যাচ্ছি কি সুন্দর ! সত্যি দিনগুলো বদলে যাচ্ছে এখন ।
শিক্ষায় আজ বদল সুস্পষ্ট । মেধা এখন অর্থের কেনা গোলাম । ফেললে কড়ি অথবা মাখালে তেল ; সব মিলে যাবে অনায়াসে । প্রতিটা সাবজেক্টে টিউটর ভুড়ি ভুড়ি । একটার পিছনে অন্তত দুটো থাকবেই আর যদি সে ইস্কুলের হয় তবে তো কথাই নেই ।
আমরা সত্যিই বদলে যাচ্ছি কি সুন্দর ! সত্যি দিনগুলো বদলে যাচ্ছে এখন ।
খেলাধুলা মানেই মোবাইল--- ক্রিকেট থেকে ফুটবল সারাদিন । আর মাঠগুলোয় এখন , গজিয়ে উঠছে আবাসন
প্রমোটিং হাজার হাজার । কোটি কোটি ইনভেস্টমেন্ট , কি হবে বানিয়ে হেলথ । তার চেয়ে জিমে নিয়ে ফেলে এডমিশন -- পকেটের বাকি টুকুর শ্রাদ্ধ হয়ে যাক ।
এভাবেই এগিয়ে চলেছে সমাজ , উন্নতির জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে নদীর জল আজ ---- মূলটুকু ভুলে
সামান্য কিছু সুদের লোভে আমরা সত্যিই বদলে যাচ্ছি কি সুন্দর ! সত্যি দিনগুলো বদলে যাচ্ছে এখন ।
আজ থেকে হাজার বছর পরে , এই পৃথিবীর কথা ভেবে
আঁতকে উঠি মাঝে মাঝে ।
৬।।
ও মশাই , কি যা তা লিখছেন ?
মহাভারত ছেড়ে একটু ভারতে ফিরে আসুন ,
দ্রৌপদীর শাড়ির আঁচল ধরে টান দুশাসনের ,
তাতেই সবাই চুপ ।।
আজ তো কাপড় খোলা ,
ফাটা জিন্স এমনিই ঝুলছে তলায় ;
চুপ না থাকলে কি চলে ?
ও মশাই কি যা তা লিখছেন ?
মনে আছে পাশা খেলা আর শকুনির চাল ,
রাজ্য হারিয়ে পাণ্ডব দল জঙ্গলে গেল ,
আজ তো চাল টুকুও লাগে না
শুধু একটা ক্লিক ,
দেখবেন সব খুইয়েছেন ।।
আর জঙ্গল !! সে তো ইটে ঠাসা
গরম গরম দামে ভেজে পরিবেশিত হচ্ছে ঠোঙায় ।।
তখন যাবেন টাই কোথায়, কুরুক্ষেত্রে ??
দেশের মধ্যে হাজার হাজার যুদ্ধ তো চলছে এমনিতেই ,
কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী ---
গীতা র কত এডিসন বাজারে পচছে-পুনর্মুদ্রণ কপি।
কে শোনাবে আর কে শুনবে ?
শুনতে গিয়ে কে দক্ষিনা গুনবে , মোটা টাকা ।।
সারথি একলাই না হয় নিলেন ,
মাইনে দেবেন কোথা থেকে --- আগেই তো এত ধার !!
ও মশাই কি যা তা বিবর্তন দেখাচ্ছেন ,
পরিবর্তন বলুন পরিবর্তন ।।
৭।।
ভয় পাই । ভালোবাসতে তোমাকে ভীষন ভয় পাই । আসলে অভিজ্ঞতার ভিড়ে যখন পাতা উল্টে অতীত দেখি ,
যখন মোড়কের মধ্যে লুকিয়ে রেখে দেওয়া এই বোকা হাঁদাটাও মন খুলে মনের কথা বলেছিল ,
যখন বুকের বাঁ পাশে চিনচিন করে যে অনুভূতি জেগে উঠেছিল ,
তাও সবটাই দ্বিতীয়বার ।
তখন ভেবেছিলাম , হয়তো ভগবান আজও আছে । হয়তো আমার জন্য সে ভালো কিছু তুলে রেখেছে বস্তায় ভরে ।
তারপর যেদিন ঝড় উঠলো । সব কিছু ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল
এক নিমেষে ।
স্বপ্নের বাসায় ডিম গুলোয় তা দিচ্ছিলাম এত দিন ধরে । সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো ।
আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম । ভাবছিলাম । এভাবেও সব শেষ হয়ে যায় বারবার ।
মন ভেঙেছে বলে জানতে পারেনি কেউ । কান্নাগুলো রাতের কুয়াশা করে ভাসিয়ে দিয়েছিলাম । ভিজেছিলাম আমি , আমার বালিশ , বিছানা সব ....
তবু তোমার মনে দাগ কাটে নি কোনদিন । বরং অভিশাপের পাশাপাশি অনেক অভিযোগ জমা করেছি এক এক করে ।
তৃতীয় হবার আগে ভয় পাই .... এমন নয় যে হৃদয়ের বাগানে ফুল ফোটেনি আর ,
পুড়িয়ে দিয়েছি প্রত্যেকটি যেমন আজ করছি এই ভর্তি কামরায় এগিয়ে যেতে যেতে । মেয়েটি খুব ভালো । একটু বোকা আর অনেকটা বাচ্চা বাচ্চা ....
ভয় পেয়ে ডায়েরিটা বন্ধ করে দিলাম । যদি প্রেম লিখে ফেলি আবার ।
৮।।
যে কথা বাকি রেখে যায় মেঘ ; সূর্যের জন্য
আমি সে কথা তুলে রাখি ; আচারের বয়ামে ।
বর্ষায় যে মাছ ডিম পাড়তে পারলো না ; এ বছর
আমি তাদের পৌঁছে দিই নদীর আলপথে ।
যে পথ কারো অপেক্ষায় জেগে থাকে
যে বাড়িতে শোকেরা প্রতিদিন হানা দেয় অতিথি হয়ে
যে শরীর কেঁপে ওঠে ; হেরে যাওয়ার ভয়ে
আমি তাদের স্বান্তনা দিই ; প্রতিবার ।
মানুষ হয়ে মানুষের জন্য ; এটুকু করাই যায়
অসুস্থ সমাজে টোটকাটুকু , এটলিস্ট ।
সকালের রোদ ওদের সুস্থ করে দিলে
ভাঙা মন নিয়ে মৃত কবরের পিছনে ছুটে যাই ।
এভাবেই দিন কাটে ; ফুরিয়ে আসে প্রয়োজন আমার
তারপর নদী বয়ে যায় , রামধনুরা জেগে ওঠে
ঘুম ভাঙা পাখিরা ফিরে আসে , ব্যস্ততায়
পৃথিবীও নিজের খেয়ালে কক্ষদৌড়ে নাম লেখায় ।
আমার খবর রেখো না ,
সুটি হয়ে একদিন ; জড়িয়ে নেবো দুটো শেষ অধ্যায় ।
সেদিনও দেখবে অনেক মৃত জেগে রুগি হাসপাতালে
আদালতে বিচার পাইনি অনেকে ।
মন্দির মসজিদ ; কত এলো কত গেলো
ভেঙে পড়া কংক্রিটে , নতুন রক্তবীজ জেগে উঠলো ।
বাকি রেখে যাওয়া কথাগুলো , কাঁচের বয়ামে সেদিন
কান্না হয়ে ঝড়বে ; প্রেমিকার দুচোখে ।
৯।।
শেষ পাত । অনাহার শরীর তারপর
তিনদিন , তিনরাতেই ; তিনশো বছরের পার ।
মৌমাছি বদলেছে রেণু , ফুলের পরাগে ভ্রূণ আর সাজে না
বসন্ত সেজেছে এ বুকে , হেমন্তের গান তবু থামে না ।
পাড়ার কুকুরেরা দুই ছিল ; আজ কয়েক ডজন
ফাঁকা গোয়াল , ভরে আছে এখন ; বাছুরে কেবল ।
গোলকের এক দিকে ঊষা যেখানে , অন্যদিকে ভরে অন্ধকার
গোলাপের লাল ঠোঁট উষ্ণ যত , কাঁটায় ততটাই যন্ত্রণার চিৎকার ।
আমি আজ ভালো আছি , হাসি ভরে থাকে মুখে
কিন্তু হাসির পেছনের গল্পটা , ভালোর হাহাকারগুলো
কেউ বোঝে না ।
যুধ্বং সাজে সেজে , আমরা চলেছি যুদ্ধে
যুদ্ধ : দারিদ্র্যের সঙ্গে , বেকারত্বের সঙ্গে ; প্রতিদিনকার ছেড়ে
যুদ্ধ করছি কান্না মুছতে , হাসি খুশি মুখেদের বিরুদ্ধে ।
আমরা কষ্ট বুঝেছি , যন্ত্রনা বুঝেছি খুব
বুঝেছি গরমের চাঁদি পোড়া রোদে
লাশ সাজা কত বড় অসুখ
একটা চোখের জল অন্য চোখে স্থানান্তর হয়ে গেলে
মানুষ জন্ম সম্পূর্ণ ; যার একক সূত্র
থিওরি অভ আই ওয়াশ ।
১০।।
কিছু নেই আর তুলে দেওয়ার মত আমার কাছে । যেটুকু ছিল কবেই দিয়েছি তোমায় । আমার কাছে আমি ছাড়া আর কিছুই নেই । বিশ্বাস আজ তলানিতে , জানিনা কোন ক্ষণে কোন সেই রাজকন্যে ফিরিয়ে দেবে সেটুকু আবার । ভালোবাসা আজ লুকিয়েছি পাথর হৃদয়ে আমার । জানিনা কোথায় সেই অচিনপুর আর কে কবে নিজের ভালোবাসায় জয় করে নেবে আমায় । রামের স্পর্শে অহল্যা শাপ মুক্ত হয়েছিল ত্রেতায় । কলিতে এবার আমার পালা আসবে কি না ভেবেই বসেছি অপেক্ষার তপস্যায় । আমি যোগ্যতায় হেরে গেছি বারবার । তার থেকেও অনেক অনেক বেশি হারিয়েছি কতজন কতবার ।
আমায় ক্ষমা করো । আমার কাছে আর কিছু নেই তোমায় দেবার মত । অসহায় এই শরীর নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে গেছি তোমাদের । ফল হয় নি কিছুই , ফিরে এসেছি খালি হাতে
নিজের একাকিত্বে । কেউ বলেছে কুৎসিত , কেউ দিয়েছে ধিক , কেউ মিথ্যাবাদী , কেউ পাপী অনাচারি । সহ্য হয় নি , তাই তোমাদের জন্য বিশ্বাস প্রেম ভালোবাসা সব শিকে তুলে রেখেছি । হৃদয় রক্ত মাংস ছেড়ে পাথরের সমাধি গড়েছি ।
তবু এই পৃথিবীতে ব্যতিক্রম হয় বলেই জানি । আর তাই প্রতীক্ষায় দিন গুনি । আমি ভালোবাসার উপাসক । ভালোবাসা দিতে এসেছিলাম । ভালোবেসেছি যাকে তাকে নিজের করে তার উন্নতি ভেবে গেছিলাম ।
ফেরত পায়নি কিছুই । দেয়নি যারা সারা । তাদের ধন্যবাদ ।
খুব শিখে গেছি ,
এ পৃথিবীতে সবই পূর্ব নির্ধারিত ।
১১।।
স্বপ্নের রাজকন্যে আজ বাস্তবে । সুন্দর ঘর , বাগান বাড়ি বিশাল । সামনে ঝোলানো দোলনায় রোদের আলো আড়চোখে তাকায় ভোর বেলায় । রাজকন্যে তার বিছানায় তখনও স্বপ্নে বিভোড় ।
বাইরের সকাল একটু থেমে এগিয়ে গেলে , গরম চা এসে হাজির হয় । আড়মোড়া ভাঙা পাখির ডাকে রাজকন্যে
চোখ খুলে যায় ।
তারপর দিন যায় নানা ব্যস্ততায় । মেঘের চিঠি উড়ে আসে তার ঠিকানায় । একটা দুটো করে কবিতারা ঝাঁপি থেকে হাত বাড়াতেই রাজকন্যে চিৎকার করে ওঠে । প্রেমিকের ছবি হৃদয়ে জড়িয়ে রাখা সুন্দরী মেয়েটি তার কথা লিখে , হিজিবিজি পরিকল্পনার খাতায় ।
তার প্রেমিক থাকে অনেক দূরে । দেখা হয় না যখন .... তখন হাওয়ায় ভাসিয়ে দেয় সে তার চুলের গাছা । এক একটি চুলে এক একটি ভালোবাসা ।
জানিনা তবু গ্রহণ লাগে কেন ? কেন বিনা মেঘেও বজ্রপাত হয় ? তবু মানুষ তো
অতঃপর , বসন্তের অপেক্ষা ।
১২।।
সহ্য আর প্রেম এক নয় । প্রেমিক সন্যাসিও একদিন তিতিবিরক্ত হয়ে ওঠে । তবে ধ্বংসের জন্য নয় ,
তার কণ্ঠে সেদিন একটাই কথা ফিরে আসে বারবার ;
এবার বিচার চাই ....
বিচার যা আগে হয়নি কোনদিন । সাধারণ প্রতিটা মানুষের জন্য হোক এই বিচার । এমন বিচার যা কোনদিন স্পর্শ করেনি কোন নিরীহ মানুষের রক্ত । এক যুদ্ধ এমন ,
যার প্রতিটা শব্দে থাকবে মানবিক মুখ । এক যুদ্ধ এমন , যা বিশ্বের প্রতিটি অসহায় মানুষ চেয়ে এসেছে । এবার এমন একটা কিছু হোক , যা নিষ্পাপ সংসারী সবাই দোয়া করে প্রতিবার ;
এবার বিচার চাই ....
দিনটা সোমবার । শিবের বার । আর রাতটা মঙ্গল ; রক্তের । বিমানের বোমাগুলো যখন আছড়ে পড়লো ওদের ওপর তখন সাধারণ সবাই ঘুমিয়ে ছিল নিশ্চিন্তে । অনেক দিন পর বিচার পেয়েছে সবাই । শান্তি পেয়েছে বিশ্ব এতদিনে ।
কাঁটা তার মানুষ আর অমানুষের বিভেদ করে । সাধারণ , নিরীহ মানুষকে নয় । তারা আজ বিপদমুক্ত সবাই - হিন্দু , মুসলমান , শিখ , বৌদ্ধ প্রভৃতি সবাই ।
অমানুষগুলো আর ডি এক্স দেখিয়েছিল । বিচারে একটা কথা লেখা হল ,
ওসব আমরা তখন থেকে ব্যবহার করছি যখন তোরা জন্মাস নি , বাঁড়া ।
১৩।।
না । আজ একটি কথাও বলবো না । অভিমান করেছি । প্রচন্ড , প্রচন্ড , প্রচন্ড । ভালোবাসার গাছটি আজ মারা গেছে জানো । খুব যত্ন করে বড় করেছিলাম । আগলে রেখেছিলাম । সে আমাকে বলেছিল , আমাকে ছেড়ে কোনদিন কোথাও যাবে না ।
এদিকে হুট করে কেমন চলে গেল ।
আমি জানতাম না চলে যাওয়া এত সোজা । সব ছেড়ে , স্মৃতিগুলো ভুলে দূরে সরে যাওয়া এত সোজা ।
আমার বাবা নেই । সেও একদিন চলে গেছিল । আমাকে ডাকে নি একবারও । হয়তো ডেকেছিল । আমিই শুনতে চাইনি । শুনতে পেলে আঙ্গুল ধরে হাঁটা লাগাতাম সেই কবে।
তবে ওকে যেদিন নিয়ে এসেছিলাম সেদিন থেকে ওকে
সঙ্গে রেখে দিয়েছিলাম । বুকের মধ্যেকার পাঁজর জড়িয়ে জড়িয়ে সেও বেড়ে উঠছিল । তারপর একদিন শুয়োপোকাটা দেখি নেই সেখানে । ঝকঝকে সকালে রামধনু রঙ ছড়িয়ে প্রজাপতি হয়ে উড়ে গেছে ।
কে জানে কার কপালে বসে আছে এখন ?
এই অভিমান নিয়ে বলা ছেড়ে দিয়েছি । টুথপিক দিয়ে খুঁচিয়েও দাঁতের ফাঁকে জড়িয়ে থাকা কোন কথাই বেরোবে না । সম্মানের দরজা খুলে আমি দাঁড়িয়ে আছি একলা নেতাধোপানির পাড়ে । আর আমার বেহুলা ? স্বর্গে ...গাঙ্গুরের উল্টো স্রোতে গা ভাসালো না কোনদিন ।
না । আজ একটি কথাও বলবো না । অভিমান করেছি । প্রচন্ড , প্রচন্ড , প্রচন্ড ।
১৪।।
জীবনের ক্লান্তিগুলো দিনের শেষে মাথায় বাসা বাঁধে । পুরো শরীর জ্বলছে । কিন্তু আগুন এলো কোথা থেকে !! হয় চিতা জ্বলছে নয় রাগে গোটা শরীর । অনেক তো বসে থাকা হল ।
এবার চলো সবাই মশা মারতে কামান দাগি ।
এক বেলার খেলা । বিকেলে আড্ডা হবে না হয় । সিরিঞ্জের হুলে হুলে রক্ত লেগে আছে আমাদের ।
আর কি সহ্য হয় ??
লোমকূপের ভিতরে যে শিরা , ধমনী , উপশিরা । তার মধ্যেই পূর্বপুরুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে । আমাদের উচিত তাদের সম্মান টুকু রক্ষা করা । দিন কেটে রাত গেছে কত । কত তারা খসে পড়ে গেছে - ডেঙ্গু , ম্যালেরিয়ায় । আমরা দেখেছি ক্লান্ত হয়ে । আজ শরীরে সেই চিতার উষ্ণতা পাঠ্য জীবনে এনেছে নতুন প্রতিজ্ঞা ।
জীবন তো কিছু নয় কখনোই । সামান্য কিছু বন্য শপথ । আজ তেমনই হয়ে যাক কিছু । অনেক তো বসে থাকা হল ।
চলো সবাই মশা মারতে এবার কামান দাগি ।
১৫।।
সূর্য উঠবে না আর । সারাদিন ধরে অন্ধকার কালিমাখা গর্জন । শব্দদের ছুটি দিয়েছি আজ থেকে । তারা ভেসে যাক মেঘের পালকে । নতুন ঐতিহ্য সৃষ্টি হোক । নতুন করে দিগন্ত আঁকা হোক সকলের ।
রোগটা বুকে বসে আছে । তীব্র যন্ত্রণাময় । বাড়ির ভীত না বানিয়েই প্রাসাদের স্বপ্ন দেখে যে চোখ , অন্ধত্ব নেমে আসুক তার জীবনে ।
নিজেকে খুঁজে দেখার ইচ্ছে হয় না কখনো ! কতটা অপদার্থ সে জীবন , তাই না ? তার চেয়ে সন্যাসি হয়েই বেড়িয়ে পড়া যাক । সক্রেটিসের ভাষা প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে ফিরে আসুক বারবার ---
' নো দাইসেলফ ' .....
বড় হতে গেলে ছোট হতে হয় । প্রয়োজনে প্রতিদিন । অনেক কালিমা লেপ্টে নিয়েছি সারা মুখে । এবার উত্তর খুঁজতে হবে ।
তাই আলবিদা , গুডবাই ।।
১৬।।
বড় অদ্ভুত এই বিকেলটা । অস্তগামী রবির গান ,
ওদিকে পাখি উড়ে চলে যাচ্ছে না জানি কার প্রাসাদ প্রাঙ্গনে
সেই ছবিটা ফুটে উঠলো আবার ।
তুমি বিশ্বাস করতে কোনদিন ফেলে যাবো না কোথাও
ধন্য যোগ স্থাপন করতে সকলের মাঝে স্থানটুকু ভরে ফেলবার জন্য
তাও দেখো হাত দুটো এক হওয়ার জন্য আজও ছটফট করে ।
খোপার ফুলখানি আজ মুর্ছে গেছে গাছেরই ডালে
মনের মন্দিরে ভালোবেসে লেখা নামে ধুলো পড়ছে
তোমার নামটুকু তবু অক্ষয় আজও
তোমার গানের যে তাল শিখেছি কখনো
তার মধুতে পরান জুড়িয়ে যায় এখনো ।
সিঁদুর তোমার সিঁথিতে পড়াবো বলে বসে থাকি
কোনদিন পারলে ফিরে আসবে ভেবে ।
ইস্টিশন , বাস স্ট্যান্ড , হকার মার্কেট , নিউ বাজার , এস্প্ল্যানেড ,
বইপাড়া থেকে বইমেলা
খুঁজি রবি ঠাকুরের গান তোমার গলায় ।
আজ অনেক কথাই কবিতা হয়ে ভেসে এলো
চোখের জলে
অনেক কথাই লিখে ফেললাম রবীন্দ্রনাথ শুনতে শুনতে
" ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে "
যে কথা কোনদিন হয়নি বলা , শ্রোতাদের কাউকে ।
১৭।।
আমরা আজ ধর্মের ঘরে চুরি করেছি । বুঝতে চাইনি কোনদিন কেমন লাগে ধর্ম আর অধর্মের ফারাক ।
আমরা মানুষের রক্তে নিবেদন করেছি অর্ঘ -- ঈশ্বরকে , আল্লাহকে ,
বুঝতে চাইনি মানুষের মধ্যে বিরাজমান তার অবস্থান ।
যুগে যুগে দুত এসেছে পৃথিবীতে শান্তির বাণী বয়ে
মুছে গেছে তারাও , ক্ষত বিক্ষত হয়েছে তাদের কথাও ।
তারা বলেছিল ভালোবাসতে মানুষকে , তারা জীবের জীবনে খুঁজে দিতে চেয়েছিল
বিধাতার অধিষ্ঠান ।
আমরা বুঝি নি তাদের কথা , গিলে গেছি গ্রন্থের লেখা গলা ঠুসে
বদলে চেয়েছি হিংসা আর রক্ত ধারা , মন্দির মসজিদ গঠনে ।
কত রাজা এসেছে , হারিয়ে গেছে তারা কালের স্রোতে
প্রতি পাঁচ বছরের দিন রাত আমাদের
কেটেছে অমাবস্যার আঁধারে ।
সুদিন আসবে -- এই প্রতীক্ষায় জীবন কাটিয়েছি আমরা
আসে নি ভালো দিন , বদলে জীবন আমাদের
হয়েছে আরও বেশি ম্লান ।
বন্ধু , মরতেই হবে যখন একবার
তখন ভয় কিসের ?
এগিয়ে চলো , একলা পথেই
গণতন্ত্র আজ আবার দিচ্ছে ডাক ।
যবনিকা হোক পতন , মুছে ফেলি চলো কুলাঙ্গারদের পরিচয়
মুখোস ওদের ছিড়ে ফেলে দাও দূরে
গদি চ্যুত করো যত রাক্ষসে , এ বুকে যারা দখল করেছিল আশ্রয় ।
একবার চলো রনে নামি সকলে মিলে
একবার , দোহাই তোমাদের , শুধু একবার
বেরিয়ে এসো মাটির মাঝে , সুখের বিছানা ছেড়ে ।
মুখে মুখে গেয়ে উঠুক আজ , আমরা করি না দানবে কোন ভয়
মা আমাদের বিপদে যখন
তখন হানতেই হবে ধর্মের জয় , নিশ্চয় ।
১৮।।
আমার সত্যিগুলো যাচাই করো বারবার আর মিথ্যেগুলো সত্যি ভেবে সিঁকে তুলে রেখে দাও প্রতিদিন । একটা একটা করে জমুক আর তারপর হিমালয় হওয়ার আগে বিলিয়ে দেবো মূর্খদের জন্য ।
চাঁদি ফাটা রোদে রাস্তা ফাঁকা । সূর্যের তাপ চুষে খেয়েছে সমস্ত মানুষ যখন , তখন আমার কথাগুলো গিতা ভেবে গিলে খেও । আমাকে অনুসরণ করে ঘেঁটে দেখার কী দরকার !
আমি বলতে পারি । অন্যের দোষ তুলতে পারি । আবার ভীড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে অনায়াসে লুকিয়েও নিতে পারি নিজেকে । প্রয়োজনে নিজেকে বদলে ফেলতে পারি নিমেষেই : হিন্দু থেকে মুসলমান অথবা উল্টো ।
ভাবছো গিরগিটি আমি .... বলতেই পারো ।
রাজনীতির নাম গিরগিটি : এ প্লটে বিক্রি খুব
এদেশের অতি চালাক ভোটের বাজারে ।
১৯।।
দুর্গম সময় হেঁটে চলেছে বাতাসে । সূর্য উল্টো বইছে । আমরা শেষ থেকে শুরু করেছি যে পথ
সেখানে বন্ধু , সাথীহারা আমরা প্রত্যেকে ।
বিশ্বাস করি না আর নিজেকে , পাছে অন্যকে সন্দেহ করতে হয়
মানুষ রূপে নারায়ণ মরছে দেখছি পথের ধারে
আর আমরা কংক্রিকেটের শিল্প স্থাপনেই উন্মাদ ।
খেয়াল করে দেখো বন্ধু , যে সুভাষ গান্ধী সুকান্ত ভাঙছি আমরা
দেশের কোনায় কোনায়
তারা তো কবে ভেঙে গেছিল মানুষের অসহায় অবস্থায় ।
বীর ভগত , বিশ্ব রবি অথবা বিদ্রোহী কবির কণ্ঠে সেদিন
নতুন ধর্মের আহবান ছিল , মানবিকতার বিস্তার ছিল আর ছিল ভালোবাসার সন্দেশ
ঠিক যেমন ছিল কৃষ্ণের বাঁশিতে , নবীর ভাষণে অথবা যীশুর গল্পের আড়ালে
কিন্তু আজ স্বাধীনতার এত বছর পরেও , আমরা বিভক্ত বিষাক্ত চিন্তাধারায় ।
ভেবে দেখো , ঈশ্বর আজ লড়ছে নবীর বিরুদ্ধে , জেশাস গত রাতে খুন হয়েছিল লংকায়
আর আমরা নিজেদের ছেড়ে ধর্ম রক্ষায় এক এক করে শহীদ হবো
স্বজনদেরই বিপক্ষে --
ধর্মের কয়েনটা নিচে নেমে আসছে
গিলোটিন জেনেও আঁকড়ে ধরছি
নিজেদের রক্ষা করবো বলে :
এপিঠে রাজনীতি আর ওদিকে আতংকবাদ
যারা ধর্ম বানায় কনজিউম করতে ....
আমাদের কোনটাই চাই না --- কিছু মানুষ পেলে যোগাযোগ করুন
নোয়া-র নৌকার জন্য ।
২০।।
প্রথমবার জলে ভেজা দুজনে বুঝেছিল
ভালোবাসার মানে
হাতের উত্তাপ , শিরা , উপশিরা বদলে গেছে কতবার
কতবার বদলে গেছে আংটি আর চুড়ির রং
কতবার নেলপলিশ উজ্জ্বল হয়েছে আবার ফিকে হয়ে গেছে
কতবার কতজনকে ছুঁয়ে বৃষ্টি ভিজিয়ে দিয়ে গেছে
ওরা প্রত্যেকে বুঝেছিল কোন না কোন দিন
ভালোবাসার মানে ।
জীবনে চলার পথে মোড় আসে অনেক
কখনো ১৮০ডিগ্রি ঘুরে নতুন ভাবে সব শুরু হয় আবার
কোথাও আবার সাজানো বাগান শুকিয়ে যায়
প্রচন্ড গরমে ।
তারপর বৃষ্টি নামে অঝোরে , ভিজে যায় মাটি
ব্রেক আপ করা ছেলে মেয়ে দুজন নতুন করে ভেবে ওঠে
নতুন করে সাজায় তাদের সংসার ।
বৃষ্টি তাদেরও ভিজিয়ে যায় , বুঝিয়ে দিয়ে যায়
ভালোবাসার মানে ।
মানুষগুলো বদলে যায় শুধু , অনুভূতি একই থাকে
প্রতিটা বৃষ্টি ভেজায় প্রথম প্রেমের মতোই ।
২১।।
আমি কি পারবো তোমার মত হতে কোনদিন ?
প্রতিদিন নিকটিনে ভালো সব উড়ে যায়
নেশার গেলাসে যে অন্ধকার পড়ে থাকে
তাদের পৃথিবীতে উত্তর খুজে দেখি সারা রাত জুড়ে
আমি কি পাবো বন্দি তোমায় বুকের পাঁজরে কখনো ?
দুটো পেগ , তিনটে পেগ আর এভাবেই কেটে যাবে গোটা রাত
বিশ্বাস করে জেগে থাকি পেঁচাদের সাথে
তাস খেলি , জুয়া , বাজি সব চলে
আর তারপর ওদেরও ভোর হয় , সুজ্জি ওঠে
যাদের পৃথিবী খারাপ বলেছিল কখনও ।
দড়িটা ফাঁকা ঝুলবে এরপর থেকে
ভালদের ভিড় জমে আছে ভাঙা বেদিটার পাশে
আমার শরীর উঠে আসবে এক এক করে ; নোংরা ধাপ ধরে
ওদের কাঁধে ...
ওরা নিদর্শন চিনে নেবে ঠিক , ইতিহাসের হলুদ কবর খুঁড়ে ।
২২।।
দিতে পারবে এক ফোঁটা হেমলক
এই নির্জীব শরীরে ?
দিতে পারবে এক ফোঁটা হেমলক
এই নীরব ঠোটেঁ ?
পারবে না ,
আমি জানি তোমরা পারবে না
পৃথিবী জুড়ে লাল হয়ে উঠবে ,
রক্ত স্রোত ভেসে উঠবে কোনায় কোণায় ।
সেদিন দিতে পারবে এক ফোঁটা হেমলক
এই শান্ত , নীরব , হতাশ , ক্লান্ত , উপায়হীন মননে ?
হয়ত সেই দিন আজ দূর নয়
যখন মুছে যাবে সমস্ত আনন্দ , ভেসে যাবে দুটো গাল
গড়িয়ে পড়া চোখের জলে । চারপাশে জমে উঠবে
নীরব ভিড় এই শরীর ঘিরে ।
তখন
দিতে পারবে এক ফোঁটা হেমলক
সেই মৃত চিতার জ্বলন্ত বুকে ?
২৩।।
বিষ চাই , পারবে দিতে এক ফোঁটা ?
তীব্র জ্বালায় জ্বলে পুড়ে ছারখার
এ বুকে মরুভূমির হাহাকার
চোখের সামনে শুধুই এক নীরব প্রান্তর
বেঁচে থাকা বরই দুস্তর
সমাধানের অক্ষর , সীমিত কয়েক ফোঁটায় ।।
তাই ; বিষ চাই , পারবে দিতে এক ফোঁটা ?
তোমাদের চোখে জোৎস্না রাত ,
এনেছে নতুন প্রভাত ,
আমার জীবন ভয়ংকর , অন্ধকারের নামান্তর
থেমে যেতে চায় বারবার
দিশাহীন এ পথের শেষে ।।
তাই ; বিষ চাই , পারবে দিতে এক ফোঁটা ?
চিতার ওপর শুয়ে আছি ,
খোলা চোখে স্বপ্ন দেখি , ধোয়ার ওপারের দেশে
তুমি আর আমি মিলব অবশেষে
বিদায় লগ্নে দাঁড়িয়ে তাই
চটজলদি মুক্তি চাই ।।
তাই ; বিষ চাই , পারবে দিতে এক ফোঁটা ?
২৪।।
আমায় আর প্রশ্ন করে না নীল ধ্রুবতারা
তারা জানে আমার ইচ্ছাগুলো আজ পূর্ণ দিশাহারা
মদের গেলাসের নীল আভা নতুন সূর্যের মত
আমাকে হাতছানি দেয়
রোজ রাতে আড্ডায় বসি তারই সাথে জুত করে
ভ্রমরেরা যে মধু চুরি করেছিল তোমার রেনু থেকে
তার কোয়েক ফোঁটা মিশে গেছে এখানেও
আমাকে স্বস্তি দিতে , স্বান্তনা দিতে
বেঁচে রয়েছি আজও , জীবনের মত সবুজ
কিন্তু পর্ণমোচি এই শরীরে আয়ু ঝরে পড়ে গেছে
অনেককটাই ।
আমি মদের গেলাস ঠোঁটে জড়িয়ে নিলাম
এই গেলাসে তোমার ছোঁয়া আছে
তোমার কোলে আমার মরন
আর মরনে আমার কবিতা , তোমাদের কবিতা ।
পূর্ণিমার চাঁদ আম গাছের ঝাড়ে উঁকি মারছে
আজ নীলাভ নেশায় সেও উন্মত্ত
আর যে শান্ত বিহঙ্গ সুর উড়ে গেল
বাড়ির দিকে -- তোমার
যেখানে সানাইয়ের আনন্দ রস ঝরে পড়ছে
যেখানে ভিড় করেছে অপ্রেমীকের পঙ্গপাল
সেখানে ; একটু আশীর্বাদ নিয়ে
নীল গেলাস খালি হয়ে গেছে - এখন মাঝরাত্রি
মন্দিরে বেজে ওঠে চার্চের ঘন্টায় আজানের সুর
আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি ধীরে ধীরে
হাত পা অসার , অসহ্য যন্ত্রনা বুকের বাম নিলয়ে
ওপরে নীল আকাশ , নীচে নীল গেলাস , নীল বৃষ্টি ,
নীল পাখির কলরব
নিজেকে নীলকণ্ঠ মনে হচ্ছে আমার ।
২৫।।
বরফের ঘাড়ে বসে ঘুরতে বেরিয়েছে রোদ্দুর
আমি তার ছায়ার পিছু হাটছিলাম
উঁচু নিচু পথ আসছিল আর যাচ্ছিল
তবু থামিনি একদিন
আমি , হাঁটছি , সিকিম থেকে
আরব সাগর উপকূল পর্যন্ত ।
মাঝে কিছু নদী আমায় থামালো
বললো , কি হে , কোথায় যাচ্ছো ?
আমি বললাম , ছেড়ে আসতে ।
লাল মাটি নিচ থেকে হাঁক দিয়ে বললো
এত দীর্ঘ পথ পেরিয়ে , যাচ্ছেন কোথায় ?
আমি হেসে বললাম , ছেড়ে আসতে ।
পাহাড়ের পাথরকুচি , আমের মাছি ,
কাঁঠাল আর পেয়ারা বাগান --
তারাও থামিয়ে একথাই জিজ্ঞাসা করলে
আমি বলেছিলাম , ছেড়ে আসতে ।
অনেকেই আগ্রহ দেখালেও আকাশ বা বাতাস
আটক করেনি আমায় ।
তারা সঙ্গে চলেছিল , আমার সঙ্গে
ছেড়ে আসতে ।
যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যে পৌঁছে নদী গুলোর সাথে দেখা
রাস্তা আটকে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল ,
কি যেন ছাড়তে এসেছিলে এতদূর !!
আমি এক গাল হেসে উত্তর দিলাম
ওই দেখুন দূরে , আমার ব্যর্থ সময় ।
২৬।।
খুব ইচ্ছে আমার , গোলাপ ফুলের লাল রঙটা
এবারের দোলে তোমার মাথায় লেপে দেবো ।
আর দুহাতে কিছু হলদেটে , তলপেটে নাম হীন
ঘাসফুলের সবুজ রঙ
আর হৃদয়ে থাকবে রজনীগন্ধা ।
এবারের দোলে খুব ইচ্ছে তোমার বাড়ি যাবো
দরজায় ধাক্কা শুনে তুমি আসবে ছুটে , গায়ে তখনও কাল রাতের পোশাক ,
পায়ে জুতো নেই আর মাথায় চুল খোলা , উড়ে এসে পড়ছে চোখের পাশে ।
খুব ইচ্ছে এবারের দোলে , ওই দুটো ডাল
আমার কাঁধে তুলে নিয়ে
রওনা দেব শান্তিনিকেতনে ।
খুব ইচ্ছে দোল এ দুলবো দুজনে
রবী ঠাকুরের সেই বনে , ফুলডোরে বাঁধা ঝুলনায় ।
খুব ইচ্ছে তোমায় নিয়ে দোল খেলবো
পিন্ডারে পলাশের বনে
একদিকে অযোধ্যা কৃষ্ণচূড়ায় ভিজে যাবে আর
অন্যদিকে বাগমুন্ডির রাধাচূড়া সারি সারি ....
খুব ইচ্ছে আমার , বিকেলের লাল আকাশটা
এবারের দোলে তোমার সিঁথিতে পড়িয়ে দেবো ।
২৭।।
আমি গাছ কিনতে চেয়েছিলাম , আসল গাছ
ওরাও গাছ কিনতে চেয়েছিল
কিন্তু বৃষ্টি গাছ কিনতে দেয় নি ---
বৃষ্টি গাছকে ভালোবাসে , মেঘের সাথে ঘুরতে এসে
গাছের সাথে কথা বলে ।
সেখানে একটা পাহাড় ছিল , পাহাড়ে পাথর ছিল
পাথরে গাছটা দাঁড়িয়ে থাকতো রোজ
মেঘেদের দিকে তাকিয়ে ।
মেঘ ফিরতো না একদিনও , রোদ্দুর তাকে আটক করেছিল
গাছটা তাই কাঁদতো , চিৎকার করতো
পাথর সরিয়ে বাড়ি ফিরতে চাইতো , তার মা এই মাটির কাছে ।
বৃষ্টি কথা দিয়েছিল , সবকিছু গুঁড়িয়ে তাকে মুক্ত করবে একদিন
আমায় গাছটা সব বলেছিল , যেদিন তাকে কিনবো বলেছিলাম
নাহলে আমি কি করে এত কথা জানবো !
আমি এখন গাছ কিনতে চাই না
মাটির জন্য কিছু মেঘ কিনতে চাই , বৃষ্টি আছে যেকটাতে ।
২৮।।
মলমাসে নাকি পুজো হয় না
আমি তো রোজ করি
কাব্যপূজা ....
কলম আমার প্রেমিকা
রোজ রাতে গলা জড়িয়ে শুয়ে থাকি
এখন তো সে প্রেগনেন্ট .... গর্ভে কাব্যকথা ...
নাম রাখিনি
নামে কি আসে যায় , ভাল লাগলে
গোলাপ নাহলে কাঁটা ....
কিছুদিন গেল ওর জন্মের পর
কেউ এলো না দেখতে
বুঝলাম
এদেশে মেয়ে হওয়া ভাগ্যবান আর নাহলে
মেয়েদের হওয়া :
কাব্য নয় ।
২৯।।
ফিরতে হবে আবার , ফিরতেই হবে
এই বাঙলার বুকে
এই গঙ্গা , সরস্বতীর মিলিত ধারায়
ভেসে যেতে হবে
এই গাঙ্গুরের পদ চিহ্ন ধরে
জয় করতে হবে স্বর্গের ইন্দ্রাসন
প্রমাণ করতে হবে শ্রেষ্ঠ আজও এই দুনিয়ায়
মানুষ , মানুষ আর মানুষ ।
কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলে দেবেন ,
জীবন্ত মানেই তাতে জীবন নাও থাকতে পারে ,
হতে পারে সে মৃত , একটা জীবন্ত লাশ
কিন্তু
বেহুলা যদি লখিন্দরের সঙ্গ দেয়
তবে মনসার সাধ্য কতটুকু
যে হারাবে সে , তার প্রতিপক্ষ চাঁদ সদাগর ।
আমাকে এই রাজপথে , এই শালবনে ,
এই মাদলের গর্জনে , এই টুসু গেরামে ,
এই সুবর্ণার তীরে , এই রূপনারায়নের গভীরে
একজন বেহুলা খুঁজে পেতে হবে ।
আমি ফিরবো আবার একদিন
নোঙর করবো : ফরাসি নয় , বাঙলার ঘাটে
সাথে কবিতা আর নাটোরের বনলতা সেন ।
আমার নায়িকা ভিনদেশি হয়েছে
আমি এবার ফিরবো দেশি সুরার আড্ডায় ।
৩০।।
একদিন , গভীর দুপুরে
কিছু ভেঙে পড়ল পাড়ার উঠোনে
দৌড়ে গেলাম ছুটে
দেখি পিঁপড়ের ভিড় -- সারি সারি পিঁপড়ে
আর তাদের লম্বা লাইন
ভাঙা গাছের ডালটার তলায় বেশ কিছু চাপা পড়েছে
আর বেশ কিছু আহত পড়ে আছে
আর তাদের আশেপাশে ভিড় জমেছে
চলছে উদ্ধারকাজ ।
মনে মনে মুচকি হেসে ফিরে এলাম
ভাবলাম এত পিঁপড়ে , আর লাশ হাতে গোনা গোটা কয়েক
তারপর একদিন সূর্য-গাড়ি বাড়ি ফিরলো মুচকি হেসে
এত মানুষ , আর লাশ হাতে গোনা গোটা কয়েক --
এটা হয়তো সেও ভেবেছিল সেদিন ।
৩১।।
আজ শেষ না হওয়া একটা অধ্যায়
শেষের দিকে পা বাড়ালো
রোডের ধারে যে গঙ্গাফড়িং লাফাচ্ছে
তাদের মত নয় , তবু তাদের মতোই
হয়ে যেতে হবে
মুখোশ না পড়েও মুখটাকে মুখোস
বলা হলো
স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতাম
এখন দ্বিতীয় মুখেও অভ্যাস করছি
কোন রকম মিথ্যের ধার ধারেনি
তবু মহাভারতে যুধিষ্ঠিরও মিথ্যেবাদি
আসলে
সবটাই অঙ্কের সমীকরণ
টাইম ∝ ১/লাভ .... যদি পুরুষ তুমি ভীষণ খাঁটি
আর
টাইম ∝ লাভ .... যখন হৃদয় তোমার বড্ড মেকি ।
৩২।।
তোমাকে নিয়ে একটা প্রেস মিট করবো
আমাদের ডিভোর্সের
আকাশের তারাদের আশীর্বাদের লার্ভা বর্ষণ করবে
জ্বালামুখীর ভিতর থেকে
আর সূর্যের রক্ত রঙ ইস্কুল , কলেজের বুকে ছড়িয়ে পড়বে
হত্যা হবে আমার , একটা কলমের আঁচড়ে
তোমার তখন নতুন জন্ম হবে ,
একাদশীর চাঁদে ।
মনে আছে আমারও
তোমারও নিশ্চই
যেদিন তোমায় গোলাপ এগিয়ে বলেছিলাম
ভালোবাসি
অনেকগুলো হৃদয় গোল করে বসে
ময়দানে , নন্দনে , ইডেনে
সেদিন প্রেস মিট করেছিলাম ....
আজ তবে কাঁটা গ্রহণ করতে
প্রেস মিট হবে না কেন ?
৩৩।।
সেখানে বাঞ্ছারামের একটা বাগান ছিল
বাগানটার নিচে একটা খাঁচা
আর খাঁচার ভিতর বন্দি সবাই ।
সেখানে মাঠ ছিল
মাঠের নিচে সুড়িখানা
সুড়িখানা আমার ঠিকানা ।
বাংলাদেশের আমের বনে , পেয়ারার জঙ্গলে
বরফের চুড়োয় , সমুদ্রের ধারে
বসে থাকি আমি মহুয়া নিয়ে
প্রত্যেকে আসে , নেশার সাথে সেক্স করে
যতক্ষন জেগে
তারপর
একদিন ঘুমিয়ে পড়ে খাঁচার ভেতরে
বাঞ্ছারাম কিন্তু এখনো জেগে ।
৩৪।।
অক্ষর আমার খুব ফিকে হয়ে গেছে
জ্যোৎস্নায় চাঁদের হাট বসেনি তাই
ফাগ হাতে দাঁড়িয়ে ছিল যে ফাগুন
রঙের আগুন লাগে নি তার হৃদয়ে ।
কবিতা বুনে গেছি জাল দিয়ে নয়
প্রেম গেঁথে
কে আর জানতো বলো
সে প্রেম তুমি বোঝো নি কখনও ।
তোমার মাঝে যে জেদ দেখেছিলাম আমি
সে জেদ আজ কেমন যেন নীরব
আচ্ছা , কোন অপরাধ ছিল কি আমার
ভালোবাসা তোমায় কি এতই দুষ্কর ।
গর্জে উঠতে পারতে, বলতে পারতে একবার
ধান্দা কি হ্যাঁ! দূর হয়ে যাও তস্কর।
অথবা প্রথম দেখার আদেশ
পারতে গো করতে তুমি
আদেশ হতো শিরধার্য্য
ও আমার মনের লালি ।
আমার মনে ভয় হয় -- প্রেমের জন্য
তুমি তো সেসব বুঝেই গেছিলে সেদিন
তবে কেন নীরব হয়ে গেলে ? কেন নিলে না অপরাধীকে
গ্রেফতারের ঝুঁকি ?
উত্তর দাও
চাঁদের মুখে সৃষ্টি ছাপা , হে বিষাক্ত ফণী ।
উত্তরের আসায় দিন গুনবো , রাত নামাবো তোমার ছবি দেখে । যাই বলো ; যেদিন খুশি বলে দিও
উত্তরে ভালোবাসি , আমার জীবন সঙ্গী ।
৩৫।।
তুমি আর আমি - চলো ঘুরে আসি
ওই আলোছায়া পথে
এক অন্য সময়ে , অন্য এক পৃথিবীর ধূসর বিকেলে
যেখানে ভালোবাসা যায় -- দু দন্ড নিশ্চিন্তে ।
হাজার গল্পের ফাঁকে গোলাপ পড়িয়ে দেবো খোঁপায়
জড়িয়ে নেবো বুকের খাঁজে , যেমন মেঘলা রাতে
কালো মেঘ জমে থাকে , আকাশের দোরগোড়ায় ।
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বো তোমার শরীরে
শীতলতায় বাঁধা পড়বে দুটো মন -- বুকে জড়িয়ে নিয়ে
ঠোঁট তখন ঠোঁটে লেগে আছে আর
গোটা শরীর চিনে নেবো একে অপরের
ঘাসের বিছানায় জংলি ফুলের মাঝে হবে
আমাদের ফুলশয্যা । সূর্যের পড়ন্ত লাল রং সিঁথি রাঙিয়ে দেবে কোনদিন । ভালোবেসে এক হয়ে যাবে শরীর মন সেদিন ।
কবিতা , সেদিন তোমার ভাষা বলবে । কাব্য ধারা কলমে আমাদের , তোমার পথেই চলবে । জ্যোৎস্না চাঁদ আকাশ ভাসাক অথবা নাই ভাসাক ; অন্ধকারেও আলোর বন্যা আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাবে অনন্তে । জন্ম এক না হলেও , মরন আমার তোমার বুকে আর তোমার এই কোল বিছানায় ।
৩৬।।
প্রিয়তমা
হৃদয় আমার ,
তোমার আমার মিলনের এই সন্ধ্যা
নতুন একটা গল্প লিখে যাবে কোনদিন
জানো , তোমাকে প্রথম কবে ভালোবেসেছি ?
তোমাকে প্রথম কবে দেখেছি ?
সেদিন সূর্য লাল হয়ে ভেসেছিল আকাশে
একটা পাখি গান করতে করতে পেরিয়ে গেল
হৃদয় ঘেষে । আমি সেই শেষ আলো আঁধারী রঙে
তোমায় মন দিয়েছিলাম , চাইনি কিছুই আর আজ এখনও অবধি যত টুকু দিয়েছো তুমি সেটুকুও পাওয়ার অধিকার নেই আমার ।
ভালোবাসা দুটো অক্ষরের দাস ; আমি আর তুমি
কিন্তু দুটির মধ্যে যে বিস্তর ছড়িয়ে থাকা বিন্দু
সেটাই বোধহয় এই টান ।
একদিন তোমাকে দেখতে চাই , পূর্ণ বেসে পূর্ণতা পাক
এই জীবন । তারপর তোমার সামনে বসে , লাল গোলাপের লালিমাটিকে তোমার দুটো গালের টোলে ঘষে দেবো দুটো ঠোট দিয়ে চুমুর মধ্যে দিয়ে চুষে নেবো অন্তরের মিষ্ঠতা
সোহাগ করবো তোমার সঙ্গে --
ফাঁকা বায়ু স্তরে চিৎকার করে বলে দেবো
আজ থেকে তোমার সুখের দুঃখের দায়িত্ব আমার
তোমার কানের পাতায় লিখে দেবো তিনটে কথা
ভালোবাসি , ভালোবাসি , ভালোবাসি ।
তোমার যৌবন দুটো বুকে আমার মাথা এলিয়ে দিয়ে
জড়িয়ে নেব সারা শরীর জুড়ে
আর তারপর আস্তে করে মুঠো আলগা করে বলবো
এবার তুমি স্বাধীন । চাইলে উড়ে যাও নীলের গভীরে
চাইলে বন্দি হতে তৈরি হও বুকের খাঁচার ভিতরে ।
সব শেষে লিখবো ,
আমি মোটেই ভালো নয় । তাই দায়িত্ব তোমার হাতেও রইল
কিছুটা শুধরে নেওয়ার ।
ইতি
একটা শরীর ।
৩৭।।
সাহিত্য সেখানে এখনও ভালোবাসার নাম --
বেঁচে থাকার মরন ফাঁদ , সীমাহীন লোভ ; চারদিকে হেঁটে বেড়ায় , ধর্মের ধ্বজা তুলে জন্ম নেয় কুরুক্ষেত্র ।
সাহিত্য সেখানে এখনও ভালোবাসার নাম --
ধর্মের নামে রক্তস্রোত , অধর্মের বিজয় পোত ; অনর্থক দাঙ্গায় ভেসে যাওয়া সর্বহারা , অসহায় পরিচয় শত্রু থেকে মিত্র ।
সাহিত্য সেখানে এখনও ভালোবাসার নাম --
নেতাদের ঔদ্ধত্য , হীতের আড়ালে দ্রোহিতার কারবার ; লুণ্ঠিত জনগন কাঁদছে পথে , মনে হয় যখন সুভাষ , নজরুল ভীষন প্রয়োজন ।
সাহিত্য সেখানে এখনও ভালোবাসার নাম --
এখানে রবির আলো আছে উজ্জ্বল , অকপঠ নজরুল , ভালোবাসা জীবন আনন্দ এখানে আর নতুনে শক্তি , সুনীল , শঙ্খ প্রবল ।
এখানে বিনয়ী বিনয় আর মেঘনাদী মাইকেল । এখানে শীর্ষেন্দু , সুকুমার , সত্যজিত থেকে যুবরাজ সমরেশ ।
এদের হাতেই বরাহভয় , এ চরনেই আজও গড় করে যায় চাকা ।
লাল দাবানল পুরো সৃষ্টি যেখানে
সাহিত্য সেখানে এখনও ভালোবাসার নাম ।
৩৮।।
একা একা ফিরে আসা ভিড়ে
খুঁজে ফিরি কত বেলা
হাজার মুখের ব্যস্ত এ সমুদ্দুরে
স্বপ্নের জাল বুনে চলে অবিরাম
তোমার স্বপনের ফেরিওয়ালা ।
সকালের লাল জ্যোৎস্নায়
পাগল হয়ে ফিরি বারবার
দেখেছি মহামিলন , অগুনতি ঢেউ জুড়ে
মেঘের বিমানে , সোহাগি রথে চড়ে
শূন্যে ভাসিয়ে রাখি , ভালোবাসার সংসার ।
আমি জানি , এ সবই বৃথা প্রচেষ্টা এক
যদিও তুমি চিনে নিয়েছিলে সেদিন যে কথা
তবুও ,অকপটে সে মেনে নেওয়াটুকু
আমার জীবনে অভিশাপ মৃত্যুকথা ,
আসলে সেদিন দোটানায় থমকে গেছিলাম ।
সময় তো অনেক হলো --
নতুন সূর্য ধরা দিয়েছে নীলিমার জালে
এসো আমার কাছে , বসো এ মনে একবার
পরিনীতা , তোমার জন্য একমুঠো লালিমা তুলে রেখেছি
মিলন হয়ে গেলে , সিঁথিতে লেপে দেবো বলে ।
তারপর রাতের চাদরে মুড়ে , অমাবস্যার বিছানায়
শুধু দুজনে
মিলে মিশে হবো একাকার
বাসর থেকে ফুলশয্যায়
প্রয়োজনে সবটাই রিহ্যারসাল করে নেবো -- স্টেজের আড়ালে ।
৩৯।।
১।।
একটা কবিতা তোমার জন্য রেখে গেলাম
যে কবিতা তোমার বীর্যে আনবে পৌরুষ ,
যে কবিতা তোমার হৃদয়ে বান ডাকবে ,
অশ্রান্ত জীবনে নদীর বুক চিরে ।
তোমার জন্য রেখে গেলাম আমার যা ছিল বাকি ,
তার সবটাই
স্মৃতি , ভাষা , সিগারেটের ফেলে দেওয়া ধোঁয়া ,
সব , সব , সব ....
আমি তোমার জন্য রেখে গেলাম শরীরের ক্ষত ,
হৃদয়ের আঁচড়ের দাগ । বৈরাগী মন এখন শান্তি চায় ,
তুমিও চাইবে একদিন - তবে পাবে না , তাও জানি ।
সেদিন ভরা রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে তুমিও দিয়ে যাবে ,
অতীত , ভবিষ্যতের হাতে । আর চিৎকার করে বলবে ,
এই নারকীয় সুখ , এই সিগারেটের টান ,
পাঁচ দশটা প্রেম তোমার হোক
তুমি , এক নবজাতক ... আহ কি শান্তি !!
ওই শান্তি আমার চাই , বাকি কবিতার সমস্ত পাতা
তোমার জন্য রেখে গেলাম ।
২।।
যৌবন তোমায় ছুঁয়ে থাকবে , প্রেম কামড় দেবে শরীরে
ন্যাংটো প্রেম , ন্যাংটো শরীর , ন্যাংটো এই জীবন
ন্যাংটো জন্ম সেদিনের , ন্যাংটো পুড়ে হবে ছাই ।
প্রেমে আঘাত পাওয়া যে কান্না , সেটাও হাত বদলাবে
তোমার কলম সেদিন লিখবে কবিতা
পাওয়া, না-পাওয়ার অসন্তুষ্টি ; তোমার হৃদয়ে চিরকাল থাকবে
তোমার মন চিন্তায় ডুবতে ডুবতে ঠিক যখন সফলতা চেখে দেখবে
ঠিক তখন পশ্চিম কোণায় বেজে উঠবে ঘন্টা
মনে পড়বে বিনয় , মনে পড়বে ফিরে এসো চাকা ।
সেদিন তোমারও শখ হবে , রোদের মাঝে দুচোখ খুলে ভিজতে
সারা শরীরে যে সিগারেট , মদ আর মেয়েছেলের আতর ঢেলেছিলে ষাট টা বছর ধরে , সব ধুয়ে ফেলে দিতে ।
তারপর সেই রোদের মাঝে চিৎকার করে বলতে
অসফল , আমি চূড়ান্ত অসফল ... এই জীবনে ...
কিন্তু পারবে না ।
কবি , সেদিন তুমিও দিয়ে যাবে সব ; নবীনদের জন্য
লেখা হবে নতুন করে , হয়ত তোমারই কলমে
'আবার ফিরে এসো চাকা ' ।
৪০।।
আমার একটা শবরী চাই
শৃঙ্খল ভাঙা সূর্য আমি চাই
পৃথিবীর আঙিনায় ।
আমি চাই একটা বিশ্বাস
আমি চাই এক প্রচলিত চিন্তা , ভাবনা
নতুন মোড়কে তার ।
আমি চাই এক টুকরো স্বপ্ন
বাস্তব এ কুসংসারের মধ্যবর্তী হয়ে
করে দেবে যে জীর্ণ যত ঝরা পাতা চুরমার ।
আমি এক পাঞ্চালি চাই
স্বাধীন মোড়কে
শরতের আকাশে একটা মেঘ চাই
বসন্ত ফাগে রাঙানো রঙিন পালকের ।
দুষ্মন্ত নই কোন শকুন্তলার জন্য
আমি বিক্রমাদিত্য , শবরীতেই ধন্য ।
৪১।।
প্রতিবাদ , হোক শালা শুধুই প্রতিবাদ
মানবিক ধরমে , মানুষ আজ হোক আবাদ ।
অশান্তি মারানিদের চাই না তাই
ভাতৃত্বের গান , গেয়ে চলেছি ভাই ।
মসনদে দেখো , শুয়োরের বাচ্চাগুলো হেনেছে আবার
রাঙিয়ে পৃথিবী তাই রক্তের দরবার ।
মুছে যাবে নিশ্চিত সব , সময়ের সাথে
খেটে খাওয়া মানুষের নিরীহ ঘর্মপথে ।
ওই শালারা ভাগ করেছে পৃথিবী , ধর্মের নামে
বিদ্ধ করেছে হিজরা জীবন, নাগরিক প্রশ্নবানে
অপমানিত সংবিধান , কন্ডোম বেঁধেছে মুখ বহু কলঙ্কে
উত্তর আসবে ঠিক নেমে , বেহিসেবি ইলেকশন অঙ্কে ।
একশ তেত্রিশ কোটি মিলে যাও একশো তেত্রিশ কোটির সাথে
প্রয়োজনে , নেমে এসো নাহয় , শ্রমিকের রাজপথে
প্রতিবাদ , এ শুধুই এক প্রতিবাদের দিন
মানবিক ধরমে , মানুষ আজ হোক স্বাধীন ।
৪২।।
বিয়ে ছাড়া তোমার সাথে থাকা যায় না ?
ভাবনায় জড়ানো যায় না নিজেদের একটা গোটা রাত ?
মিশে যাওয়া যায় না তোমার পলকে ?
হারানো যায় না আবেগে তোমার আমার ?
রাতের ওই তারাদের চোখে নিয়ে
তোমার হাতে শুয়ে থাকা যায় না ?
যায় না অমাবস্যার নিস্তব্ধ অন্ধকারে
ন্যাংটো হয়ে কাটিয়ে দিতে ?
সমাজের ওই নিয়মের হাতছানি
নাই বা মেনে চললাম !
নাই বা গলায় দড়ি বেঁধে দুজনে
মালাবদলের খেলা খেললাম !
নাই বা সিঁদুর লেপে দিলাম
তোমার সিঁথিজুড়ে
নাই বা পড়লে লাল শাড়ি
বউ ভাতের ওই সমস্ত নিয়ম মেনে ।
বিবাহ মানে তো বিশেষ বন্ধু হওয়া
বিবাহ মানে তো সুখ দুঃখে সঙ্গ দেওয়া
সেটুকু ছাড়া কিসের জন্য এত রীতি রেওয়াজ
কাদের জন্য , বলতে পারো তোমার প্রদর্শন হবে আজ !
আমাদের বিয়ে হবে নতুন করে
শীৎকারের সানাই বাজবে , সঙ্গম মন্ত্রের শ্লিল সুরে ।
No comments:
Post a Comment